''''''''''"""""বৃষ্টি বিলাশ""""""""""""


বৃষ্টির দিনে কেমন জানি একটা থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে... প্রকৃতি কেমন যেন মনটা বিসন্ন করে থাকে.. তার বুকে জমে থাকা সব দুঃখ-কষ্ট বৃষ্টির পানির সাথে মিশিয়ে তার কষ্টটা একটু হালকা করে..
সকাল থেকেই টিপ টিপ বৃষ্টি পরছে পরিবেশটাও অন্ধকার হয়ে আছে..ঘুম থেকে উঠার পরি মনটা খারাপ হয়ে গেল.. আম্মুর থেকে চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে আসলাম...
চায়ের কাঁপে চুমুক দিতে দিতে আমার বুকের বামপাশটা কেমন যেন করে উঠলো.. হয়তো তার কথা খুব মনে পরছে..
ইচ্ছা করছে বৃষ্টিতে গিয়ে ভিজতে..যেখানে আমার মনের গহীন কোনে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো বৃষ্টির পানির সাথে ধূয়ে মুছে যাবে.. কিন্তু পরক্ষনে তার শাসন করার কথাগুলো খুব মনে পরছে..
একদিন বৃষ্টিতে খুব করে ভিজেছিলাম যার ফলস্বরুপ রাতে ভিষন জ্বর-স্বর্দি..
সেইদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলে আর বলেছিলে আমি যেন আর কক্ষোনো বৃষ্টিতে যেন না ভিজি..তুমিতো আজ আমার সাথে নেই তাইলে কেন আমি তোমার কথাটা মেনে ছলবো. আমিতো তোমার সবকথাই মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু তুমিতো পারলেনা আমাকে দেওয়া তোমার কথা রাখতে।
আমাকে পর করে দিয়ে ছলে গিয়েছিলে একবার ও ভাবলেনা তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো..তোমাকে আমি এতটাই আপন ভেবে নিয়েছিলাম যেন তুমি আমাকে যা করতে বলছো তা যেন আমারি মনের কথা।।
কিন্তু আমার সব ধারনাই ভুল ছিল.. নিস্বার্থ ভাবে ছলে গিয়েছিল এমনি একটা বৃষ্টির দিনে.. জানো আজো আমি এইদিনটাকে ভুলতে পারিনি আমার মনে হয় এইদিন কিছুদিন আগেই তুমি আমাকে ছেড়ে ছলে গিয়েছো..কিন্তু না ৫টা বছর কিভাবে যে পার হয়ে গেলো আমি টের ই পেলামনা। হয়তো তোমাকে আমি অন্ধ ভালোবেসেছিলাম তাই.. কিন্তু তুমি হয়তো দুই-একটা বাবুর মা ও হয়ে গিয়েছো।।
আচ্ছা তোমার কি মনে আছে তোমার কোলে আমি মাথা রেখে শুয়েছিলাম তখন তুমি আমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলেছিলে আমাদের দুইটা বেবি হবে ছেলে হলে নিসাত আর মেয়ে হলে নিপা।।
আমি তখন মৃদু হেঁসেছিলাম বলেছিলাম আচ্ছা তুমি যা বলবে তাই হবে...
এরপর তুমি আর আমি ফুঁচকা খেতে গেছি তুমি কি সুন্দর খাচ্ছিলে আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর তুমি আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিলা. তখন আমার অনেক আনন্দ লাগছিল কারন যদি আমার আম্মুর পর আমাকে কেউ মুখে তুলে কিছু খাইয়ে থাকে সেটা তুমি...
তুমি আমাকে তোমার বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক জোরাজুরি করতা...একদিন ঠিকই আমাকে ধরে বেঁধে নিয়ে গিয়েছিলা যদি জানতাম তুমি আমাকে তোমার বাসায় নিয়া যাবা তাইলে আমি কখোনোই যেতামনা..কারন তোমার বাবাকে আমি অনেক ভয় পাই।।তোমরা অনেক বড়লোক ছিলা..আর ভয় পাওয়ার কারন ও আছে আমি হলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে সবে মাত্র পড়াশোনা শেষ করলাম এখন পর্যন্ত কোনো চাকরিই আমার কপালে জুটলোনা।।কারন চাকরি পেতে হলেতো অনেক টাকা লাগে..আর আমারতো সেটা ছিলনা..
তোমার আম্মু আমাকে অনেক পছন্দ করেছিল...কিন্তু তোমার আব্বু তোমার সামনে আমাকে কিছু না বল্লেও তেমাকে পরে ঠিকই বলেছিল...আমার মত বেকার একটা ছেলেকে বাদ দিতে তিনি তার বন্ধুর ছেলের সংগে তোমার বিয়ে ঠিক করেছে তারা অনেক বড়লোক, তাদের বাড়ি-গাড়ি সবই আছে সুধু ছিলনা আমার কিছু...
তুমি পরদিন এসে আমাকে জড়িয়ে অনেক কেঁদেছিলে আর বলেছিলে আমি যেন তোমাকে ভুলে যাই..তোমার বাবা তোমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে.. আর আমি যেন তোমার কথা ভেবে কষ্ট না পাই....উত্তরে আমি সুধু হ্যা বলেছিলাম..আর বলেছি ভালো থেকো...কান্না তখন আমার বুক ফেঁটে আসতে ছেয়েছিল কিন্তু আমি আটকে রেখেছিলাম...
এক এক করে আজ পাঁচটা বছর কেটে গেলো কিন্তু এইদিনটা আমি আজও ভুলতে পারিনি।।।
এখন হয়তে আমার বাড়ি-গাড়ি সবই আছে ঠিকই কিন্তু আমার মনটা নেই..তাই তোমার ফেলে যাওয়া শূন্য হৃদয়টা কাউকে দিয়ে পূরন করতে পারিনি....ভালো থেকো...
ডেডিকেটেট:আমার অপ্সরিটাকে
# হাসনাত_তূর্জ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

¢ বিয়ে বাড়ি ¢

★★এত কষ্ট কেন ভালবাসায়★★

৫ টাকায় কিডনি ক্লিন, জেনে নিন ঘরোয়া উপায়