ভালোবাসার সংগ্রামী জীবন

মধ্যবিত্তের_সংগ্রামী_জীবন ...
----------------
অাজ শুক্রবার,প্রায় বেলা ১১টা বাজে,টিউশনের প্রিপারেশান নিচ্ছে আশিক...
অাজ ম্যাথ পরীক্ষা নিবে স্টুডেন্ট এর...
জুমার নামাজ শেষেই শাকিল টিউশনিতে যাবে...
তার চোঁখের দিকে তাকালে মনে
হয় যেন চোঁখে অাগুন জ্বলছে...আশিকের রুমমেট শিহাব
কানে হেডফোন লাগিয়ে
গান শুনতেছে অার পায়ের উপর পা দুলিয়ে যাচ্ছে...সাথে সাথে ট্যাব এ গেমস
খেলতেছে…
লাল টকটকে চোঁখ নিয়ে শিহাবের দিকে তাকিয়ে আশিক
তাকে জিজ্ঞেস করলো ভর্তির লাস্ট তারিখ কবে?
শিহাব আশিকের
দিকে না তাকিয়েই উত্তরে বললো কালকেই লাস্ট দিন... কথাটা শুনার পর চোঁখ মুখ অারো লাল হয়ে গেল আশিকের...
.
ও একটু বলে রাখা ভালো,
আশিক এবং শিহাব একই
পাবলিক ভার্সিটিতে একই ডিপার্টমেন্ট এ পড়ে...
শাকিল মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবার বড় ছেলে..
তার ছোট অারো এক ভাই এক
বোন অাছে, যাদের পড়াশুনার খরচের কিছু অংশ বহন করতে হয় আশিক কেই...
দিন -রাত টিউশনি নিয়েই ব্যাস্ত থাকে আশিক...
অার থাকবে নাই বা কেন কারণ এছাড়া যে তার অার কোনো উপায় বা গতি নেই...অার তার রুমমেট শিহাব অালালের ঘরের
দুলাল বলা যায়...
.
যাইহোক অামরা মূল প্রসঙ্গে অাসি।
শাকিল তার স্টুডেন্ট এর পরীক্ষা নিবে তাই প্রশ্ন তৈরীতে ব্যাস্ত...।
হঠাৎ তার ফোন বেঁজে উঠলো ক্রিং ক্রং-------
আশিক ফোনের দিকে
তাকিয়েই দেখতে পেল তার মায়ের নাম্বার থেকে কল অাসছে... সাথে সাথে ফোনটা রিসিভ
করলো আশিক...
-অাস্সালামুয়ালাই কুম,অাম্মু কেমন অাছো?(আশিক)
-ওয়ালাইকুমুস্সাল াম,অা-ওয়ালাইকুম
ুস্সাল াম,অামি ভালো অাছি
বাবা,,তুই কেমন অাছিস?
-অামি ভালোই অাছি মা...বাবা কেমন অাছে?
-অতোটা ভালো
নাইরে,অাজ দুইদিন ধরে খুব অসুস্থ... ডাক্তার এর কাছে নেওয়ার মতো টাকা হাতে
নাই তাই নিতে পারিনাই ডাক্তার এর কাছে..।
-অামাকে অারো
অাগে জানাওনি কেনো?
অামিতো এখনও বেঁচে অাছি তাইনা মা...সময় করে একটা বিকাশ নাম্বার দিও...কিছু টাকা পাঠাবো, বাবার জন্য ঔষুধ কিনে নিও...
-ওকে, বাবা...
নিজের দিকে খেয়াল
রাখিস,অার ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করিস কিন্তু...
-ওকে অাম্মু,, অামার জন্য টেনশন নিওনা অামি ভালোভাবেই চলতেছি...
এই বলেই ফোনটা রাখলো
আশিক...
.
কিছুক্ষন না যেতেই আবার বাড়ীওয়ালা হাজির তার বাড়ীভাড়া অাদায়ের জন্য...
-অাজ মাসের
কত তারিখ খেয়াল
অাছেতো?( বাড়িওয়ালা)
- জি, অাংকেল মনে অাছে...(গম্ভীর স্বরে)
-তাহলে
তোমার টাকা দিচ্ছোনা কেন,,বাকী সবাইতো দিয়ে দিলো...
-অাসলে অাংকেল টিউশনের বেতনটা এখনও পাইনি, কাল পরশুর দিকে হাতে এলেই দিয়ে দিবো...
-মনে থাকে যেন...(ধমকের সুরে)
আমার সাথে কথা শেষ করেই সিহাবের দিকে তাকালো বাড়িওয়ালা...সিহাব এতক্ষণ আমাদের কাযকলাপ লক্ষ করছিলো...তাকে কিছু বলার দরকার হয়নি তার আগেই মানিবেগ থেকে টাকা বের করে দিয়ে দিছে...বাড়ীওয়ালা চলে
গেল...।
.
একটার পর একটা প্রেসার অাসতেই অাছে আশিকের
উপর... তার উপর নিজের পড়াশুনার প্রেসার...সব মিলিয়ে এলোমেলো হয়ে
যাচ্ছে সব...
বাবার জন্য গ্রামে ঔষুধ কিনার টাকা,বাড়ীওয়ালার টাকা,,এদিকে অনার্স ২য় বর্ষে ভর্তি... কি করবে সাকিল তা সে বুঝে উঠতে পারছেনা...
কিছুক্ষন পর বাসা থেকে বেরিয়ে পরলো আশিক,চলে
গেল তার এক বন্ধুর কাছে টাকা ধার চাওয়ার জন্য...কিছু টাকা ধার নিয়ে বাবার জন্য পাঠিয়ে দিল আশিক...
.
মাঝে মাঝে ক্লাস এ যেতে লেইট হয়ে যেত আশিকের...এতে সবাই তার দিকে কেমন করে
যেন তাকাতো...কারণ সে
সবার মতো না, তার ওতো বন্ধু বান্ধব ও নাই,অার হবেই বা কিভাবে কারণ সে তো ক্লাস শেষে অার এক মুহূর্তও বসে থাকতে পারেনা...
সে তো ক্যান্টিন এ বসে সবাইকে খাওয়াইতে পারেনা,,অাড্ডা দিতে পারেনা..তার বন্ধু বান্ধব তাহলে হবেই বা কিভাবে...
তবে একেবারেই নাই বললে
ভুল হবে, অাছে তবে একটা ভার্সিটি স্টুডেন্ট এর যে পরিমাণে থাকা দরকার তার ধারে কাছেও নাই...
.
এদিকে তারই ডিপার্টমেন্ট এর একটা মেয়েকে তার খুব
ভালো লাগতো,, তাকে Follow
করেই যাচ্ছে সে প্রতিনিয়তই...কি
ন্তু তাকে গিয়ে বলার
সাহস নেই অামি তোমাকে খুব পছন্দ করি...
প্রতিটা ক্লাসেই আশিক মেয়েটির দিকে বেশির ভাগ
সময় তাকিয়ে থাকতো...
আশিক ক্লাস শেষে অার এক মুহূর্তও বসে কারো সাথে অাড্ডা দিতো না,, কোনো
ক্লাস না হলে বা স্যার অাসতে দেরী হলে এরই
মাঝে যা অাড্ডা দিতে
পারা যায় তাতেই শেষ...মেয়েটিকে বারবার বলতে গিয়েও বলতে পারেনি
আশিক...।
মেয়েটির সামনে গেলে
তার অনুভূতিগুলো কেনো
জানি দূর্বল হয়ে যায়...অাচ্ছা,মে
য়েটির সম্পর্কে একটু বলে রাখি...
মেয়েটির নাম তারিন,বাবা- মায়ের একমাত্র মেয়ে...ধনী-পরিবারের অাদরের দুলালি যাকে বলে আরকি...টাকা-পয়সা,ধন- দৌলত,সুন্দরী অার ছাত্রী হিসেবেও খারাপ না...
তার তুলনায় শাকিল বলতে
গেলে কিছুই না...ক্লাস,টিউশনি অার পড়াশুনা এসব নিয়েই থাকে সে।তার রুমমেটের সাথেও তেমন
মিশতে চায়না সে...কারণ গরীবের বন্ধু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরীব এ হয়...
তার চলাফেরা,চাওয়া-
পাওয়ার সাথে রুমমেটের চাওয়া-পাওয়ার অনেক
বেমিল...
সারাদিনের পরিশ্রম শেষে তারও মন চায় একজন প্রিয় মানুষের সাথে বসে অাড্ডা দিতে...তার জীবনের সুখ- দুঃখের কথা তার প্রিয় মানুষকে বলতে...
যতই দিন যাচ্ছে তারিনের প্রতি সে অারো বেশি
অাকৃষ্ট হচ্ছে...
মেয়েটা যে কিছুই বুঝতোনা
তা কিন্তু না...
অার বুঝেও লাভটা কি,কারণ তারিনের সাথে তো
আশিকের অনেক কিছুতেই অমিল...
.
সামনে অাসতেছে ১৪ই ফেব্র্রুয়ারী,আশিক মনে মনে প্রস্তুতি নিলো ভালোবাসা দিবসে সে তার সব কথা তারিনকে বলবে,যা হবার
হবে...হ্যাঁ অথবা না তার যেকোন একটি উত্তর চাইই চাই...
বলতে বলতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী চলে অাসছে,অাগামীকাল
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস...আশিক তার পছন্দের মানুষকে নিজের করে পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে...
কিভাবে কথা বলবে তার
সামনে গিয়ে,,
প্রথমে কি
বলবে এইসব নিয়ে চিন্তা
করতে লাগলো সে...
অাচ্ছা তারিন যদি
আশিকের প্রপোজ এ রাজি
না হয় তাহলে কি হবে?
এইসব উল্টো-পাল্টা চিন্তা করতে করতে কখন যে রাত ৩টা বেঁজে গেছে ঐ দিকে তার খেয়াল
এ নাই আশিকের...
অবশেষে তার Nokia 2700
মডেলের মোবাইলটা হাতে
নিয়ে সময়টা অারেকবার
দেখে নিয়ে তারপর ঘুমিয়ে পরলো...
রাতে ঘুমাইতে একটু দেরী হওয়াতে সকালে উঠতেও
দেরী হয়ে যায় আশিকের...তাড়াহ
ুড়ো করে ঘুম থেকে
থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো শাকিল...
যেহেতু তারা দেখা করার
জন্য কোনো জায়গা অাগে
থেকে ঠিক করেনাই তাই ক্যাম্পাস এ দেখা হবে তাদের,,
অার জায়গা ঠিক
করবেই বা কিভাবে কারণ
তাদের সাথে তো অাগে
কথাও হয়নাই, শুধু দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল...ক্যাম্পাস এ যাওয়ার পথে একগুচ্ছ গোলাপ কিনে নিলো আশিক... ক্যাম্পাস এ এসে প্রথমে তারিনকে না দেখে শাকিল
হতাশ হয়ে পড়ে...
অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর দেখতে পারলো তারিন তার বান্ধবীদের সাথে ঘুরোঘুরি করছে...
দেখে কিছুটা সস্তি পেল শাকিল...
তাকে দেখার পর তার পুরো শরীর কেমন যে নড়ে উঠলো...
মনে হয় যেন ইলেকট্রিক শক খেল সে...
তবুও যা বলার অাজকেই বলতে হবে...
আশিক অপেক্ষায় অাছে কখন
সে একা হবে...যখনি সে একা
হবে তখনি আশিক তার মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা কথাগুলো বলবে...
অনেক্ষন অপেক্ষার পর তারিনকে একা পেয়ে
আশিক তাকে হাত দিয়ে
ইশারা দিলো তার দিকে
অাসার জন্য...
-অামাকে ডাকলেন?
- হ্যাঁ,তোমাকেই...
-(তারিন একটু কাছে এসে)
কি বলবেন বলেন,অামাকে
যেতে হবে।বাসায় কাজ
অাছে...
-চলো কোথাও
গিয়ে একটু বসি।
- বললাম না অামার
কাজ অাছে যেতে হবে, যা
বলার এখানেই বলেন...।
-কখনো তো বসতে
বলিনাই অামার সাথে, অাজ
না হয় একটু বসো,একটু অাড্ডা দিই... তোমার তো অনেক বন্ধু- বান্ধব অাছে অাড্ডা
দেওয়ার মতো...
-অাচ্ছা ওকে চলেন,,সামনের ছাইনিতে
গিয়ে বসা যাক,তবে সময় খুবে কম...
-ওকে,চলো...
-এখন বলেন কি বলার জন্য বসতে বলছেন?
- দেখো
তারিন,ক্লাসে তো অনেকেই অাছে কিন্তু সবাই থাকলেও তুমি না থাকলে অামার
কাছে ক্লাসটা শূন্য মনে হয়,তোমার দিকেই তাকিয়ে থাকতে মন চাই...
সারাক্ষণ শুধু তোমার কথাই মনে পরে...
অনেক সময় বলতে গিয়েও বলতে পারিনাই...হ্যাঁ,বলছি তবে স্বপ্নে... তোমাকে আমার খুব
ভালো লাগে... তোমাকে
অামি খুব পছন্দ করি...
এ বলেই গোলাপ ফুল গুলো তার দিকে বাড়িয়ে বললো --
অামি তোমাকে
ভালোবাসি। I love you tarin,i love
you..
তারিন তার দেওয়া ফুল তো গ্রহন করলোই না বরং তাকে অনেক অপমান করলো...
আশিক যা ভেবেছিল তাই হলো...
কাঁদো কাঁদো অবস্থায়
আশিক চলে অাসলো সেখান থেকে... কিছুই ভালো লাগছেনা তার...সে
এখন নিজে নিজে চিন্তা
করতে লাগলো,তারিন কে
প্রপোজ করাটা কি অামার
ঠিক হইছে?
অাসলেই
তো,অামার কি অাছে, কি যোগ্যতা অাছে তাকেহ
কাছে পাওয়ার?
এইসব কথা চিন্তা করতে করতে টিউশনে যাওয়ার সময় হয়ে
গেছে আশিকের কিন্তু
কোনো দিকেই তার মন নেই
অাজ...যেখানেই যাইনা
কেনো শুধু তারিন কে এবং
তার কাছ থেকে প্রপোজ এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অবহেলা অার অপমানের কথা কথা মনে পড়ছিলো শাকিলের...
অাজ অার টিউশনে গেলোনা শাকিল...
ফোন করে সে যে অাজ
যাবেনা তা জানিয়ে দিল...
.
এদিকে তারিন ও একটু একটু ভাবতে লাগলো আশিককে...অাচ্ছা,অামি কি আশিককে একটু বেশি বলে ফেললাম? ভালোবাসার অধিকার তো
সবারই অাছে, সব সময় যে ভালোবেসে প্রিয়জনকে
পাবে তাতো নয়...
অামি ওকে একটু বুঝিয়ে
বললেই হতো,,রাজিতো হলাম ই না সাথে অনেক অপমান ও করলাম...
দেখেই বুঝা গেলো সে
অনেক কষ্ট পেয়েছে...
নাহ, কাল গিয়ে সব বুঝিয়ে বলবো ওকে...
.
পরদিন অার ক্লাসে
অাসলোনা শাকিল...
তারিন অাজ
আশিককে না দেখে কেমন
যেন লাগলো, শাকিলতো
ক্লাস ফাঁকি দেয়না,অাজ
কেনো দিলো...
অামার কারণে নয়তো
অাবার...
এসব ভাবতে ভাবতে তার
ক্লাসে যে টিচার অাসলো
তার খেয়াল ই নাই...
তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে পরে অাসলে...
.
অাজ টিউশনের জন্য বের হলো আশিক...
ইচ্ছে করছেনা যেতে,তবুও যেতে হবে কারণ গততালও
যাইনি সে...
পরে টিউশনি না থাকলে
চলবে কিভাবে...
টিউশনে যাওয়ার পথেও শুধু তারিন তার চোখের সামনে
উঠে অাসে, যতটা তার কথা
মনে পড়ে তার চেয়ে বেশি
মনে পড়ে তার অপমান গুলো... এসব ভাবতে ভাবতেই রাস্তা ক্রস করছিলো শাকিল...মাঝ
পথে অাসার পরপরই বিপরীত
দিক থেকে ফুল স্পিড এ অাসা একটি ট্রাক তাকে চাঁপা
দেয়...
সাথে সাথেই পুরো রাস্তায় ভিড় লেগে গেলো...
কাছাকাছি একটা
হাসপাতালে নেওয়া হলো
তাকে, নাহ কিন্তু তাকে অার বাঁচানো গেলো না...
নেওয়ার অাগেই মারা যায়
সে...
সব খোঁজখবর নিয়ে তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে
দেওয়া হলো...
তারিন যখন শুনতে পারলো আশিক অার পৃথিবীতে নেই
সে নিজেকেই বিশ্বাস করতে পাছেনা... নিজেকে খুব
অপরাধী মনে হচ্ছে অাজ...তাতে তো অার লাভ নেই...
অাসলে আশিকের অনেক
অাশা ছিল সে একজন বিসিএস ক্যাডার হবে,তার পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবে...
কিন্তু না, তার কিছুই হলোনা...অাসলে মধ্যবিত্তের অনেক কিছুই অপূর্ন থেকে যায়...বিধাতাই হয়তো এমনটি চান...
[সমাপ্ত]

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

¢ বিয়ে বাড়ি ¢

★★এত কষ্ট কেন ভালবাসায়★★

৫ টাকায় কিডনি ক্লিন, জেনে নিন ঘরোয়া উপায়