নিষ্ঠুর নিয়তি


লেখক : Ak(একজন অখ্যাত লেখক)
আজ আমি নেশা করি হে অতিরিক্ত নেশা করি। কেন আমার জীবনে ভালোবাসা নামক বস্তুটি এসেছিল আজ ও তার মানে খোজে বেড়াই। জানি নেশার কারনে কিচ্ছু লাভ হবে না কিন্তু কিছু সময়ের জন্য হলে ও ওর কথা ভুলতে পারি। কথা গুলো মনে মনে ভাবতে ভাবতে আবার টান শুরু।
আবার মনে হতে লাগল ৩ বছর আগের কথা গুলো। আমি ত এমন ছিলাম না আমি ত ওকে অনেক ভালোবাসতাম। ওকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখতাম... না জানি কত রাত এই সব চিন্তায় গুমাইনি।
কথা গুলো বলতে বলতে মাটিতে পরে গেল আদনান।
৩ বছর আগের কথা.....
কলেজের প্রথম দিনেই একটা মেয়েকে দেখেই আদনানের অনেক ভালো লাগে ।মেয়েটির নাম সুপর্ণা। যেমন সুন্দরী তেমনি মায়াবী। যে কোন ছেলে দেখলে পাগল হয়ে যাবে। আদনান জানে হয়ত সে অনেক প্রপোজ পেয়েছে। 
তাই সে কি ভাবে বলবে তা বুঝতে পারছিল না। তাই প্রথমে বন্ধুত্ব করে সুপর্ণার সাথে।
আদনানের সাথে প্রতিদিন কথা হত কলেজে সুপর্ণার। এক সময় নাম্বার আদনান প্রদান হয়। ওদের বন্ধুত্ব দেখে অনেকের হিংসা হত। তাদের বন্ধুত্বটায় ছিল অনেক ভালোবসা..... কেউ একজন যদি কলেজে না আসত তা হলে অপর জন ও আসত না। প্রায় ছুটিতে গুরা গুরি করত। একজনের কোন প্রবলেম হলে অন্যজন এগিয়ে আসত। সব কথা একজন আরেক জনকে বলত। কিন্তু আদনান অনেক বার মনের কথা বলতে গিয়ে ও বলেনি যদি ওদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। আস্তে আস্তে সুপর্ণা ও আদনানের প্রতি দূর্বল হয়ে গেল।
এখন সুপর্ণা ও আদনানকে ভালোবাসে কিন্তু সুপর্ণা চাইত যে আদনান যেন আগে বলে। তাই একদিন সুপর্ণা একটা ছেলেকে এনে দেখিয়ে বলল যে এটা ওর বয়ফ্রেন্ড। আদনান কিচ্ছু না বলে কলেজ থেকে বাসায় চলে গেল। বিকালে আদনানের এক বন্ধু সুপর্ণাকে কল করে বলল যে আদনান নাকি হসপিটালে।
সুপর্ণা গিয়ে দেখল আদনান হাতে বেন্ডেজ। সুপর্ণা কিছু বলার আগে আদনান বলতে শুরু করল আমি তকে অনেক ভালোবাসিরে তকে ছারা বাচতে পারব না রে। সুপর্ণা বলল পাগল আমি ও তকে ভালোবাসি তর মুখে এই কথাটা শুনার জন্য এই নাটক করতে হল রে। এই কথা গুলো বলার পর দুই জন এই হাসতে লাগল কেন হাসচিল নিজেরাই জানে না তারা।
দিন দিন আরো কাছে আসে তারা। এখন আদনান মানেই সুপর্ণা আর সুপর্ণা মানেই আদনান। এই ভাবে চলে যায় ২ বছর। চলতে থাকে ওদের ভালোবাসা। আদনান প্রায় সময় ভাবত এত ভালোবসা আমি দরে রাখতে পারবত ।সুপর্ণা ও সব সময় বলত আমায় এখা রেখে কোথাও যেয়োনা।
হঠাৎ একদিন সুপর্ণা আদনান কে কল করে বলে যে থাকে পাত্র পক্ষ দেখে গেছে ২ সাপ্তাহ পরে বিয়ে ঠিক হয়েছে।
আদনান কি করবে চিন্তা করতে পারছিল না। এই ভাবে ১ সাপ্তাহ শেষ হয়ে গেল আদনান সুপর্ণাকে বলল চল পালিয়ে বিয়ে করি। প্রথমে রাজি না হলে ও পরে
সুপর্ণা রাজি হয়ে গেল। পরের দিন সকালে বাসে করে পারি দিল অজানা কোন জায়গায়। কিন্তু তা আর হল কোথায় যে বাসে করে যাচ্ছিল ওই বাসটা ওল্টে যায়।
আদনানের জ্ঞান পিরলে নিজেকে হসপিটাল এ দেখে। সে তারা তারি সুপর্ণাকে খোজা শুরু করল। কিছুক্ষন পরে এক ডাক্তার বলল যে সুপর্ণা আর নেই। সেই থেকে আদনান নেশায় ডুবে থাকে সব সময়। কারন সে সুপর্ণাকে অনেক ভালোবাসত আর সুপর্ণা একা চলে যাওয়াতে সে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করতে চায়। কারন সুপর্ণা ত ওকে একা রেখে যেতে না করে ছিল কিন্তু আজত সুপর্ণা নেই । আদনান মনে করে আদনানের কারনেই আজ সুপর্ণা নেই তার জন্য আদনান এই দায়ি। হয়ত ভালোবাসার এমন সমাপ্তির নতুন নয় কিন্তু অনেক কষ্টকর। নিয়তির খেলায় কে কখন কি হয় কেউ বলতে পারে না। আজ এই নিষ্ঠুর নিয়তির কাছে তাদের ভালোবাসা পরাজিত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

¢ বিয়ে বাড়ি ¢

★★এত কষ্ট কেন ভালবাসায়★★

৫ টাকায় কিডনি ক্লিন, জেনে নিন ঘরোয়া উপায়