*******অতঃপর শান্তির পথে*******

*গল্প টা পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো সবাইকে,গল্প টা পড়ার পর হয়তো আপনার জীবনটাই বদলে যেতে পারে*

.
.
.
হঠাৎ চোখ মেলে সুমন দেখতে পায় ওর মা কান্না করছে,বিলাপ করে কাঁদছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।ওর বাবা এক দৃষ্টি তে সুমনের দিকে তাকিয়ে আছেন,অতি শোকে লোকটা যেন পাথর হয়ে গেছে।ওর ছোট বোনটা "ভাইয়া ভাইয়া"বলে চিৎকার করে কাদছেঁ।সুৃমনের আত্মীয় স্বজন,বন্ধু বান্ধব সবাই কাঁদছে।সুমন ওর মায়ের সামনে গিয়ে ওর মা কে জড়িয়ে ধরে বলছে...
-----মা তুমি কাদছোঁ কেনো?কি হয়েছে?সবাই কাদছেঁ কেনো মা? কি হলো মা?চুপ করে আছো কেনো?কথা বলো,জবাব দাও......
কিন্তু সুমনের মা ওর প্রশ্নের কোন উত্তর দিচ্ছে না,ও বারবার ওর মা কে স্পর্শ করতে চাইছে কিন্তু ওর হাত ওর মায়ের শরীর ভেদ করে চলে যাচ্ছে।সুমন চিৎকার করে বলছে "তোমরা কাদছোঁ কেনো?"কিন্তু কেউ ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না।সুমন কাউকে ধরতে গেলে ওর হাত তাদের শরীর ভেদ করে চলে যাচ্ছে,ওর শরীর ভেদ করেও অনেকে আসা যাওয়া করছে।কি হচ্ছে এসবের কিছুই সুমন বুঝতে পারছে না,সবাই কেনো ওকে দেখতে পাচ্ছে না আর ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না?ঘটনা কি?
.
এমন সময় সুমনের চোখ যায় ওদের বাসার সামনে,দেখে সেখানে মরার খাটিয়ার উপর চাদর দিয়ে কাকে যেনো শুইয়ে রাখা হয়েছে।কৌতুহলবশত:সুমন এগিয়ে যায় কাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে সেটা দেখতে।সামনে যাওয়ার পর সুমন দেখে ওর এক আত্মীয় লাশটার মুখ দেখানোর জন্য পাশে বসা ওরই এক ছোট ভাইকে বলছে কাপড়টা সরাতে।ছোট ভাইয়া কাপড় সরানোর পর সুমন যা দেখে তাতে ওর মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে!!পায়ের নীচের মাটি সরে যায়!!!সুমন দেখে ওর মতো দেখতে কাউকে শুইয়ে রাখা হয়েছে,এটা কিভাবে সম্ভব?না না এ হতে পারে না,কিছুতেই না!!!কিন্তু পরে সুমন বুঝতে পারে সে মারা গেছে,অথচ কাল রাতেও সে সুস্থ ছিলো।বাজে বন্ধুদের সাথে নেশা করে বাসায় আসার পর মা জিজ্ঞেস করেছিলো কোথায় ছিলাম আর এমন লাগছে কেনো?মায়ের কথার কোন উত্তর না দিয়ে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে সুমন,মা আর ছোট বোনটা বারবার খেতে যাওয়ার জন্য ডেকেছে কিন্তু সুমন যায় নি।আজ নেশাটা মনে হয় একটু বেশী ই করা হয়েছে, তাই খুব খারাপ লাগছে।চোখ লেগে আসছিলো তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলো সে।তারপর চোখ খোলার পর এসব দেখতে পায় সুমন।
.
বাসায় সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে,কেউ পানি গরম করছে, কেউ কাফনের কাপড় আনতে যাচ্ছে।কয়েকজনকে দেখলো কোদাল,খুরপি,ষ্টিলের বোলসহ আরো অনেক কিছু নিয়ে কবর খুড়তে যাচ্ছে,ওর চাচাকে দেখলো বাশঁ আর চাটাই কেনার জন্য যাচ্ছে আর বারবার চোখ মুছছেন।ওর চাচা ওকে অনেক আদর করতো।একটা জিনিস সুমন লক্ষ্য করলো যে কেউ এখন আর ওকে সুমন বলে সম্বোধন করছে না,লাশ বলে সম্বোধন করছে।সবাই বলছে লাশ দাফন করতে হবে,লাশের জন্য কাফনের কাপড় কিনতে হবে,লাশকে গোছল করাতে হবে।অথচ কালকেও সবাই ওর নাম ধরে ডাকতো,আর আজ ওকে লাশ বলে ডাকছে।এসব কথা ভাবতে ভাবতে অতীতে ফিরে যায় সুমন.........
.
মা বাবার অনেক আদরের সন্তান সুমন।এক ভাই এক বোনের মধ্যে সুমন বড়।বাবা বিশাল ব্যবসায়ী।ইন্টার পর্যন্ত ভালো থাকলেও ভার্সিটি তে গিয়ে বখে যায় সুমন,খারাপ ছেলেদের সাথে মেশা শুরু করে,নেশা করা শুরু করে।এমন কোন নেশা নেই যা সুমন করে নি,প্রায় ই নেশা করে বাসায় ফিরতো,ওর বাবা আর মা ওকে প্রায় ই বুঝাতো কিন্তু সুমন শুনতো না।একমাত্র ছেলে, যখন যা চেয়েছে তা ই দিয়েছে ওর বাবা,ছেলের এমন অধঃপতন দেখে উনি বিচলিত হয়ে পড়েন,কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে,কিন্তু লাভ হয় নি।সেখান থেকে আসার পর কিছুদিন ভালো থাকার পর আবারো আগের মতো হয়ে যায় সুমন।মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাসায় ফিরতো,একবার তো ওর মায়ের গায়ে হাত ও তুলেছিলো নেশার ঘোরে।ওর মা সেদিন নীরবে কেদেঁছিলো,ছোট বোনটাকেও রেহাই দিতো না সুমন।
.
নেশা ছাড়াও প্রেমের ফাদেঁ ফেলে কত মেয়ের সর্বনাশ সে করেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।কিছুদিন প্রেম করার পর ভুলিয়ে ভালিয়ে লিটনের ফ্ল্যাটে নিয়ে ভোগ করার পর আর যোগাযোগ করতো না।এভাবে অনেক মেয়ের ইজ্জত আর সম্ভ্রম সে কেড়ে নিয়েছে।দেখতে সুন্দর হওয়াতে মেয়েদের সহজে পটাতে পারতো,বোকা মেয়েগুলো ও ওর ফাদেঁ কিভাবে যেনো পা দিয়ে দিতো,ওর ভদ্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পশুটাকে দেখতে পেতো না।কিছুদিন প্রেম করে ভোত করার পর পুরানোকে ছেড়ে আরেকটা নতুন শিকার ধরতো সুমন।এজন্য খারাপ বন্ধুদের কাছে সে ছিলো সুপারহিরো,আজ কোথায় তার সে বন্ধুরা??যাদের সাথে একসাথে বসে নেশা করতো?কই তারা কেউ তো তাকে দেখতে আসে নি,তারা কি খবর পায় নি যে সুমন আর নেই।তাহলে আসছে না কেনো?
এসব ভাবতে ভাবতে ও সেখানে যায় যেখানে বসে ওরা আগে নেশা করতো,গিয়ে দেখে ওর বন্ধুরা বসে নেশা করছে,অথচ তাদের ই এক বন্ধু মারা গেছে তাতে তাদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপও নেই!!!যে যার মত নেশা করছে,যেনো সুমন নামের কাউকে চিনতো না কোনকালে।
এটা দেখে সুমন কষ্ট পায়,সে এদের সাথে চলে নিজেকে ধ্বংস করেছে,নিজের মা বাবা বোন তথা পুরো পরিবারকে কষ্ট দিয়েছে,নেশার জন্য টাকা দিয়েছে অথচ আজ তারা ই তাকে ভুলে গেছে!!হায় আফসোস!!সুমন আজ আফসোস করছে,অনুশোচনা করছে নিজের কৃতকর্মের উপর,,,,কিন্তু আজ তা কোনো কাজে আসবে না..........
.
সুমন ভাবে তার যেমন এসব খারাপ বন্ধু যেমন ছিলো তেমনি ভালো বন্ধু ও ছিলো তার।তাদের মধ্যে আকাশ ছিলো অন্যতম।ছেলেটা শান্তশিষ্ট,সবসময় মাথা নীচু করে হাতে,পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সবসময়।সুমনকে প্রায় ই বলতো এসব ছেড়ে দিতে,খারাপ ছেলেদের সঙ্গ ছেড়ে দিতে কিন্তু সুমন ওর কথাকে পাত্তা দিতো না।প্রায় ই আকাশ সুমনকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য বলতো কিন্তু সুমন ওর কথা শুনতো না,ওকে এড়িয়ে চলতো।আজ সুমন বুঝতে পারছে আকাশ ই ওর প্রকৃত বন্ধু ছিলো যে তাকে সত্য ও ভালোর পথে ডাকতো কিন্তু আকাশ তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করে নি।আজ সে আফসোস করছে নিজের অতীত কৃতকর্মের জন্য,কিন্তু আফসোস করে কোন লাভ নেই,,তখন যদি সে আকাশের কথা শুনতো তাহলে আজ হয়তো তাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।
.
এসব দেখে সুমন তার লাশের কাছে ফিরে আসে,এসে দেখতে পায় তার লাশটাকে গোসল করানো হচ্ছে,গায়ে গরম পানি ঢালার সাথে সাথে সুৃমন চিৎকার করে বলছে....
------দয়া করে আস্তে পানি ঢালো,আমার কষ্ট হচ্ছে,আমার শরীর এমনিতে ই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে,তোমরা আর কষ্ট দিয়ো না....
কিন্তু কেউ ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না।
গোসল করানোর পর ওর লাশটাকে কাফনের কাপড় পড়ানো হয়েছে,চোখে সুরমা দেয়া হয়েছে,গায়ে আতর দেয়া হয়েছে।এসব সুমন চেয়ে চেয়ে দেখছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না,কিভাবে করবে?সে তো এখন আত্মা......
সুমনের লাশটা খাটিয়ায় তোলা হয়েছে জানাজা দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য,সুমনের মা ছেলের লাশের খাটিয়া ধরে বিলাপ করে কাদঁছেন,তার কলিজার টুকরোটাকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছেন,দশমাস দশদিন যাকে গর্ভে ধারন করেছে সে আজকের পর থেকে আর কখনো "মা"বলে কেউ ডাকবে না,,,,সুমনের ছোট বোনটা চিৎকার করে কাঁদছে,যত খারাপ ই হোক তার মায়ের পেটের ভাই,আর কখনো "ভাইয়া"বলে ডাকবে না,,,,সুমনের বাবা নির্বাক হয়ে গেছেন,বাবার কাধেঁ ছেলের লাশ,,এরচেয়ে ভারী আর কষ্টের বিষয় আর কি হতে পারে........
.
মসজিদে জানাজা দেয়ার পর সুমনকে দাফন করতে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।সুমন আগে আগে কবরস্থানে চলে যায়,তার জন্য খোড়াঁ কবরটাকে দেখতে।সেখানে গিয়ে তার জন্য খোড়াঁ কবরের দিকে তাকায়,তাকানো মাত্র ই তার শরীরের পশম সব দাড়িয়ে যায়,ভয়ে পুরো শরীর কাপতেঁ থাকে!!সুমন দেখতে পায় তার জন্য খোড়াঁ কবরে অসংখ্য সাপ আর বিচ্ছু কিলবিল করছে,সাপগুলো দেখতে অনেক বড় ও ভয়ংকর,বিচ্ছুগুলোও অনেক বড়,,,তারা যেন সুমনের জন্য ই অপেক্ষা করছে।এসব দেখে সুমন ভয় পেয়ে যায়।
ভয়ে সে কাঁপতে থাকে,আজকের পর থেকে এদের সাথে ই থাকতে হবে কেয়ামত পর্যন্ত,,এটা ভাবতেই সুমনের শরীর ভয়ে কেপে ওঠছে।কিভাবে থাকবে সে এদের সাথে????
.
এমন সময় সুমন খেয়াল করে অন্যদিকে আরেকটা কবর খোড়া হয়েছে।সেই কবরটার অবস্থাও কি তার কবরের মতো কি না সেটা দেখার জন্য সেদিকে এগিয়ে যায় সুমন।কবরটার সামনে গিয়ে কবরটার ভিতরে উকিঁ দেয় সুমন,উকিঁ দিয়ে সুমন অবাক হয়ে যায়,কবরটা তার কবরের মত সাপ-বিচ্ছু দিয়ে পূর্ণ নয়,ফুল দিয়ে পূর্ণ, আর অনেক সুন্দর একটা সুঘ্রাণ আসছে সেখান থেকে।সুমন অবাক হয়ে যায়,,ঘটনা কি?আমার কবরে সাপ আর বিচ্ছুতে ভরা আর এ কবরে ফুল.....
.
সুমন যখন এসব ভাবছে তখন পিছন থেকে কেউ একজন তাকে ডাকে,,ডাক শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখে একজন মানুষ দাড়িয়ে আছে,তার মুখটা চাদেঁর আলোর মত ঝলমল করছে,গায়ে সাদা পোষাক আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক তার শরীর থেকেও অনেক সুন্দর সুঘ্রাণ আসছে।সুমন তার কাছে যায়,যাওয়ামাত্র ই লোকটা সুমনকে সালাম দেয়.......
------আসসালামুআলাইকুম।
------ওয়ালাইকুমআসসালাম।
------কি দেখছিলেন ওভাবে উকিঁ দিয়ে?
------আপনি আমায় দেখতে পাচ্ছেন?
------অবশ্যই দেখতে পাচ্ছি।কারন আমিও আপনার মতই একটা আত্মা।
------আপনাকে কি একটা প্রশ্ন করতে পারি?
------জ্বী অবশ্যই করুন,যদি আমার জ্ঞানের মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই তার জবাব দেবো।
------আমি আমার জন্য খোড়াঁ কবরে গিয়ে দেখি সেখানে সাপ আর বিচ্ছুতে ভরা,,,অথচ আপনার কবর ফুলে ভরা,,ঘটনাটা কি ঠিক বুঝতে পারছি না।
------ও এই কথা,,,এটা যার যার কর্মফল।আমি ছোট থেকে সবসময় ইসলামের বিধি নিষেধগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি,পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম সবসময়,খারাপ কাজ থেকে দুরে থেকেছি,মিথ্যা বলতাম না,হারাম বস্তু ভক্ষণ করি নি,সাধ্য অনুযায়ী দান সদকা করতাম,কোন বেগানা নারীকে স্পর্শ করা তো দুরে থাক তার দিকে তাকাই ও নি,নিয়মিত কোরআন শরীফ তেলওয়াত করতাম।মোটকথা শরীয়তের সকল হুকুম আহকাম মেনে চলার চেষ্টা করেছি।আপনি যা দেখলেন এসব তার ই ফল।
------আমি জীবনে অনেক পাপ করেছি,মদ খেয়েছি,ফুর্তি করেছি,নামাজ পরতাম ই না,মাতাল হয়ে পড়ে থাকতাম,রোজাও রাখতাম না,জীবনে এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা আমি করিনি।
------এজন্য ই হয়তো আপনার সাথে এমনটা হচ্ছে।যার যার আমল অনুযায়ী প্রতিদান সে পাবে,ভালো কাজ করলে পুরস্কার পাবে আর মন্দ কাজ করলে তার শাস্তি পাবে।এটাই আল্লাহর বিধান
------আচ্ছা এখন যদি আমি ইবাদত করা,ভালো কাজ করার সুযোগ চাই তাহলে কি পাবো??
------সেটা এখন আর সম্ভব নয়,আপনি এখন প্রতিদানের জগতে অবস্থান করছেন,পৃথিবীতে আপনি যে যে কাজ করেছেন তার প্রতিদান পাবেন এখানে, কোন আমল করার সুযোগ এখন আর নেই।কবরে তিনটা সওয়ালের জবাব আপনাকে দিতে হবে,আপনি যদি নেককার হোন তাহলে খুব সহজে ই সওয়ালগুলোর জবাব দিতে পারবেন,আর যদি বদকার হোন তাহলে উত্তরগুলো আপনি দিতে পারবেন না।তখন আপনার শাস্তি শুরু হয়ে যাবে.....
.
এটা শুনে সুমন কাঁদতে থাকে,এখন তার কি হবে?এখন তো আর আমল করার সুযোগও নেই।তাকে তার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে হবে কেয়ামত পর্যন্ত.....
হঠাৎ সুমন দেখতে পায় সাদা জামা পরিহিত কিছু লোক,যাদের শরীর থেকে আলো বের হচ্ছে আর দেখতেও অনেক সুন্দর।তারা ওই লোকটার কবরে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে যায়।এটা দেখে সুমন ওই লোকটাকে জিজ্ঞেস করে......
------ভাই এরা কারা?এত সুন্দর দেখতে,আর কবরে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
------এরা হলো আমার করা নেক আমল,,,,,নামাজ,রোজা ,দান,সদকা,জিকির,কোরআন।এরা কেয়ামত পর্যন্ত আমার সাথে থাকবে আর আমায় সকল আযাব হতে রক্ষা করবে।ওই যে আমার আত্মীয়-স্বজনরা আমার লাশ নিয়ে চলে এসেছে,একটু পরেই আমায় দাফন করা হবে,আমি তাহলে এখন যাই,আল্লাহ আপনার উপর রহমত নাজিল করুন।আল্লাহ হাফেজ...বলেই লোকটা অদৃশ্য হয়ে যায়।
.
কিছুক্ষণ পর সুমন দেখতে পায় তার আত্মীয়-স্বজনরা তার লাশটাকে নিয়ে আসছে দাফন করার জন্য।সুমন চিৎকার করে বলতে থাকে...
------তোমরা আমায় দাফন করো না,আমি একা এখানে এই সাপ বিচ্ছুদের সাথে থাকতে পারবো না,এরা আমাকে আমার পাপের শাস্তি দিবে।দয়া করো...
কিন্তু কেউ সুমনের কথাগুলো শুনতে পায় না,তাকে কবরে রেখে চলে আসে।সবাই চলে আসার পর দুজন লোক সুমনের কাছে আসে।এসে জিজ্ঞেস করে...
-----তোমার রব কে?
-----তোমার দ্বীন কি?
-----তোমার কাছে প্রেরিত রাসূল কে?
প্রশ্নগুলো শুনে সুমন উত্তর দিতে পারে না,কেবল "হায় আফসোস হায় আফসোস আমি তো কিছুই জানি না"বলতে থাকে।
সাথে সাথে আওয়াজ আসে...
------সে মিথ্যা বলছে,তার নীচে আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও,আগুনের জুতা পড়িয়ে দাও আর তার দিকে জাহান্নামের একটা দরজা খুলে দাও......
অতঃপর কবর তাকে দুদিক থেকে এমন জোরে চাপ দেয় যে তার ডান পাজরেঁর হাড়গুলি বাম পাজরেঁর হাড়ের ভিতর ডুকিয়া যায়।সাপ আর বিচ্ছুগুলো তাকে অবিরাম দংশন করে চলেছে,সুমন চিৎকার করছে,জোড়ে জোড়ে চিৎকার করছে..............
.
ঘুম ভেঙ্গে যায় সুমনের,ধড়মড় করে জেগে ওঠে সে,ওর পুরো গা ঘেমে জবজব করছে যদিও ফ্যন(পাখা)ফুলস্পিডে  ঘুরছিলো।নিজের চারদিকে তাকায় সে,ভালোমতো সব খেয়াল করে,শরীরের দিকে তাকায়।নাহ!হাত পা সব ঠিক আছে,এরমানে এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিলো।ভয়ংকর স্বপটার কথা মনে পড়লেই গাঁ শিউরে ওঠছে।ওফফ!!কি ভয়ংকর।এখনো বুকটা কাঁপছে,যদি এটা সত্যি হতো তাহলে কি হতো এটা ভাবতেই শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসে সুমনের......
.
ঘুম ভাঙ্গার পর সুমনের আর ঘুম আসে না,তার অতীত নিয়ে ভাবছে সে।কত খারাপ কাজ ই না সে করেছে,কত কষ্ট দিয়েছে সবাই কে।সুমন অনুতপ্ত হয়,চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে ওর।নাহ!নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে সে,সবার কাছ থেকে ক্ষমা চাইবে,খাটিঁ দৃঢ় তওবা করবে আর কখনো খারাপ পথে চলবে না,খারাপ কাজ করবে না,ভালো হয়ে যাবে আর সৎপথে চলবে......
এমন সময় মসজিদ থেকে ভেসে আসে মুয়াজ্জিনের সুমধুর কন্ঠে আজানের আওয়াজ,,"আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম"।সুমন ওঠে পড়ে,আজ থেকে সে পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে।টুপি টা নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্য রওনা দেয় সুমন।সুন্দর করে ওযু করে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে অঝোরে কাঁদতে থাকে আর নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকে।আল্লাহ মেহেরবান,তিনি চাইলে সব ই পারেন কারন তিনি "আহকামুল হাকীমীন , গাফুরুর রাহীম,রহমানুর রাহীম".........
.
নামাজ পড়ে বাসায় এসে সুমন দেখে ওর মা ওঠে পড়েছে,সুমনকে এ অবস্থায় দেখে সুমনের মা অবাক হয়ে যায়,এটা উনি কি দেখছেন??যে ছেলেকে হাজার বলেও জুম্মার নামাজটাও পড়াতে পারেন নি সে কিনা আজ ফজরের নামাজ পড়েছে!!এত পরিবর্তন,কিন্তু কিভাবে???
মা কে দেখে সুমন আগে তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার ও বেয়াদবি করেছে তা স্মরণ করে,,সাথে সাথে মায়ের সামনে গিয়ে মায়ের পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে......
------মা আমি তোমার সাথে অনেক খারাপ কাজ করেছি,বেয়াদবি করেছি। যে মা দশমাস দশদিন কষ্ট করে গর্ভে ধারন করে আমায় পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে,যে মায়ের পায়ের নীচে আমার জান্নাত,যে মা কে কাধেঁ নিয়ে পুরো পৃথিবী ঘুরলেও তার একফোঁটা দুধের ঋনও শোধ হবে না আমি সেই মায়ের সাথে বেয়াদবি করেছি।মা তুমি আমায় মাফ না করলে আল্লাহও আমায় মাফ করবে না,তুমি মাফ না করলে আমার জন্য জাহান্নাম অবধারিত।তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও মা,আমি আর কখনো এমন করবো না,আজ থেকে তোমার সব কথা শুনবো,বলো আমায় ক্ষমা করে দিয়েছো,,বলো মা বলো..........
বলে সুমন কাঁদতে ই থাকে।সুমনের এসব কথা আর কান্না দেখে সুমনের মায়ের চোখেও পানি চলে আসে,তার ছেলে যে ভালো হবে আর খারাপ কাজগুলো ছেড়ে সত্য,ন্যয়ের ও শান্তির পথে আসবে এটা কখনো ভাবতেও পারেন নি।উনিও কাঁদছেন,তবে এটা সুখের কান্না,ফিরে পাওয়ার কান্না।সুমনকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন......
-----বোকা ছেলে কাঁদছিস কেনো,আমি কখনো তোর কথায় কষ্ট পাই নি,তুই তোর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছিস এতে ই আমি খুশি,সবসময় সত্য ও ন্যয়ের পথে চলবি,সবার সাথে ভালো ব্যবহার করবি,নামাজ পড়বি,কোরবান পড়বি,দান সদকা করবি,জিকির করবি ,দেখবি আল্লাহ তোর সব ইচ্ছে পূরণ করে দিবেন,,জীবনে অনেক বড় হ বাবা,,তোর প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই আজ......
সুমন ভাবতে থাকে এটাই মায়ের ভালোবাসা ও মমতা, যে মা হাজার কষ্ট পেলেও কখনো সন্তানের অমঙ্গল চান না,নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান,নিজে কষ্ট থেকে সন্তানকে ভালো রাখতে চান।পৃথিবীতে মায়ের মত আপন আর কেউ হয় না,কেউ মায়ের চেয়ে বেশী কষ্ট আর ত্যগ স্বীকার করে না,,,সেই জন্যই মহান রাব্বুল আলামীন মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের জান্নাত দান করেছেন....
.
এখন আর সুমন নেশা করে না,খারাপ ছেলেদের সাথে চলে না,খারাপ কাজ করে না,নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে,কুরআন তেলওয়াত করে,সাধ্যমত দান সদকা করে।আর আল্লাহওয়ালাদের সাথে সময় বেশী কাটায়।সুমনের এমন পরিবর্তনে সবাই খুশী।ওর মা বাবা বোন সবাই,,এমনকি ওর সেই ভালো বন্ধু আকাশও খুশি,তার বন্ধু ভুল বুঝতে পেরে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছে,একটি স্বপ্ন আজ সুমনের পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে....
লেখকের কিছু কথাঃ-এটা ছোট্ট একটা উদাহরন।
কবি শেখ সাদী(রহঃ)বলেছেন..
"ইহা হাম সাব মুসাফির হ্যয়,,,
ওাহি আখের ঠিকানা।
কয়ি আগে রওয়ানা হ্যয়,,,
কয়ি পিছে রওয়ানা.......
অর্থাৎ এখানে আমরা সবাই অল্প কিছুদিনের মেহমান,সময় শেষ হলেই চলে যেতে হবে চিরস্থায়ী ঠিকানায়।যে দুনিয়ার জন্য আমরা এত কিছু করছি,পরের হক ঠকাচ্ছি,জুলুম অত্যাচার করছি,ক্ষমতার অপব্যবহার করছি,ভেজাল করছি সে দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী।আজ মারা গেলে কাল দুদিন,এসেছি খালি হাতে,ফিরেও যাবো খালি হাতে।এই যে এত কষ্ট করে টাকা কামিয়েছি, গাড়ি কিনেছি, আলিশান বাড়ি বানিয়েছি,সব পড়ে থাকবে,সাথে যাবে কেবল আমলনামা।আজ আমরা যারা এই ক্ষনস্থায়ী দুনিয়ার মোহে পড়ে চিরস্থায়ী ঠিকানাকে ভুলে গেছি তারা এই গল্প থেকে শিক্ষা নেই,সাবধান হই।খারাপ কাজ ও পথ ছেড়ে দেই, ন্যয় ও সত্যর পথে চলি, ইসলাম ও শরীয়তের হুকুম আহকাম মেনে চলি,তাহলে ইহকালেও শান্তি আর পরকালেও শান্তি।আর না মানলে ইহকালে হয়তো ক্ষণিকের সুখ পাবো কিন্তু পরকালে কিছুই পাবো না।সময় থাকতে সাবধান হই।পরকালের সঞ্চয় ও পাথেয় সংগ্রহ করি।কবি আরো বলেন..
"সব ই হবে ফাকিঁ,,,
যখন মুদিবেঁ দু আখিঁ"।
চোখ বন্ধ হলেই শেষ,,সুতরাং আমল ঠিক করুন।আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন,আল্লাহর সেই কঠিন আযাবকে,জাহান্নামের আগুন,,,যে আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে সত্তরগুন বেশী শক্তিশালী সেই আগুনকে ভয় পান,যারা খুন,ধর্ষন, ইভটিজিং সহ আরো নানা খারাপ কাজ করছেন,সাবধান হোন,কারন এখন হয়তো ক্ষনিকের জন্য মজা পাচ্ছেন,কিন্তু এর পরিনতি অত্যন্ত ভয়াবহ,কারন আল্লাহ যখন ধরবেন তখন আর বাচারঁ কোন উপায় থাকবে না,কারন আল্লাহর বিচার অনেক সূক্ষ্ম,তিনি ন্যায়বিচারক ।আর যার মধ্যে এসব কোন কিছুর ভয় নেই সে যা খুশি তাই করতে পারে,যেভাবে ইচ্ছা যা ইচ্ছা করতে পারে,,,তবে সে যেন আল্লাহর আযাবের জন্য প্রস্তুত থাকে।"সমঝদারকে লিয়ে ইশারা হি কাফি হে"।আল্লাহ আমাদের সবাই কে মাফ করুক,সবাই কে দ্বীনের সহি বুঝ দান করুক,বেশী বেশী নেক আমল করার তওফিক দান করুক ও ঈমানের সহিত মৃত্যুবরণ করার তওফিক দান করুন,,,,,আমিন.......
(এটা ইসলামিক শিক্ষামূলক একটা গল্প। কেউ গল্প টা পড়ে কষ্ট পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী,আমায় ক্ষমা করে দেবেন ও কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন)
প্রচেষ্টায়ঃ-(বিবর্ণ ধূসর আকাশ)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

¢ বিয়ে বাড়ি ¢

★★এত কষ্ট কেন ভালবাসায়★★

৫ টাকায় কিডনি ক্লিন, জেনে নিন ঘরোয়া উপায়