(রিলেশন)
ইতু : মাহফুজ আরে ওই মাহফুজ তুমি ঐ
মেয়ের দিকে তাকাইলা কেন?
আমি : কই আমি আবার কোন
মেয়ের দিকে তাকাইলাম।
ইতু : ন্যাকামী করবা তো খবর
আছে এখন! আমি দেখছি তুমি
তাকাইছো।
আমি : আরে বিশ্বাস করো আমি
তাকাই নাই।
ইতু : প্রমিজ করে বলো তুমি তাকাও
নাই।
আমি : (এইরে আমি এখন কি করব আমি
তো এই মেয়ের দিকে তাকিয়ে
ছিলাম, এখন ইতুকে কি বলব? ওকে
তো আমি খুব ভালবাসি ইতুকে আমি
প্রমিজ দিয়ে মিথ্যা কথা কোনো
দিনও বলতে পারব না) ইয়ে না মানে _
ইতু : কিয়ের মানে মানে করছো
এখন হ্যাঁ, আমাকে আর ভালো
লাগে না তাই না? (কাদোঁ কাদোঁ
সুরে)
আমি : ও আমার জানপাখি তুমি এগুলো
কি বলছো তোমাকে আমি খুব
ভালবাসি। আমার মনের রাজ্যের রাণী
তুমি আর তুমি এগুলো আমাকে
বলতে পারলা?
ইতু : তাহলে তুমি ওই ম্যাইয়ার দিকে
এরকম ভাবে তাকিয়ে ছিলা কেন?
আমি : আমি সরি জান। প্লিজ একবার মাফ
করে দাও আর এরকম হবে না প্লিজ,
প্লিজ বিশ্বাস করো।
ইতু : না হবে না। আমি জানি তুমি আবার
তাকাবে।
আমি : আমি প্রমিজ করে বলছি আর
কখনও তোমায় ছাড়া অন্য কোনো
মেয়ের দিকে তাকাবই না।
ইতু : সত্যি তো?
আমি : একদম সত্যি।
এরপর ইতু আমার বুকে একটা ছোট্ট
ভালবাসার কিল দিয়ে ক্লাসে চলে
গেল। এই ইতু নামের মেয়েটাকে
আমি অন্নেক ভালবাসি। আর ইতুও
আমাকে অনেক ভালবাসে। আমরা
দুজনেই একই ক্লাসে পড়ি।
এবার ইতুর সাথে প্রথম দেখার গল্প
টা একটু বলি।
.
আমি মাহফুজ। পুরো নাম মাহফুজ হাসান।
আর ইতুর নাম হলো : ইসমত জাহান
ইতু। আমার বাড়ি হলো নোয়াখালীর
ছোট্ট একটা গ্রাম যার নাম ধন্যপুর।
আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি।
একদম বাচ্চা ছেলে। ভালবাসা কি
দেখতে কেমন সেটা দিয়ে কি
করে কিছুই জানতাম না। একদিন
আমাদের ক্লাসেই একটা নতুন
মেয়ে ভর্তি হলো।
মেয়েটির নাম ঠিকানা কিছুই আমি
জানতাম না।
মেয়েটি এত সুন্দর ছিলো যে
আমি সবসময় তাকিয়ে থাকতাম।
অন্যদের কাছে ও কেমন ছিলো
জানি না কিন্তু আমার কাছে পরীর
মতো সুন্দর লাগতো। আর তাই
তাকিয়ে থাকতেও ভালো লাগতো।
মেয়েটিকে শুধু দেখার জন্য আমি
প্রতিদিন সবার আগে খুব সকাল বেলা
স্কুলে আসতাম। আর মেয়েটিকে
দেখতাম।
একদিন আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি
আর ও কি যেন খাতায় লিখছিল। আর
তখন আমার দুই বন্ধু আমার কাছে
আসল"
ফাহাদ : কি রে মাহফুজ তোর দৃষ্টি
ভঙ্গি তো ভালো না তুই সবসময়
ইতুর দিকে তাকিয়ে থাকস কেন?
আমি : ওর নাম ইতু?
আমিন : হা হা হা হারামজাদা কয় কি? ওই তুই
ইতুরে চিনস না?
আমি : কোনো দিন তো কথাই কই
নাই চিনুম কন থিকা।
ফাহাদ : তাইলে এখন যাইয়া কথা বলে
আয়।
আমি : আমার কেমন যেন
লাগতেছে?
আমিন : কেমন লাগে রে? কনে কি
হইছে?
আমি : আরে ধুর তোরা চুপ করতো
আগে দেখতে দে।
আমিন : ওই তুই ওরে দেইখ্যা কি
করবি?
আমি : ওরে দেখতে আমার ভালো
লাগে। এখন সরতো যা এখান
থেকে।
ফাহাদ : আচ্ছা যাচ্ছি তুই দ্যাখ।
ওরা দুজন খেলতে চলে গেল।
আর আমি ইতুর দিকে সেই আগের
মতো তাকিয়ে রইলাম।
তারপরের দিন স্কুলে গিয়ে ভাবছি
আজ ইতুর সাথে কথা বলব আর ওর
সাথে বন্ধুত করব। একটু পর ইতু
আসলো এসেই সিটে বসে বই
নিয়ে কি যেন করতে লাগল।
আর আমিও এক বুক সাহস নিয়ে ওর
সাথে কথা বলতে গেলাম।
আমি : এই তুই বই নিয়ে কি করছ
(ছোট ছিলাম তাই সবার সাথে তুই
করে বলতাম)
ইতু : পড়তেছি।
আমি : তোর নাম কি রে?
(জেনেও জিগেস করলাম)
ইতু : ইসমত জাহান ইতু। তোর নাম কি?
আমি : মাহফুজ হাসান। ওই তুই আমার বন্ধু
হবি?
ইতু : হতে পারি তবে একটা শর্ত
আছে!
আমি : ওরে বাবা! আবার শর্ত আচ্ছা
বল কি শর্ত তোর?
ইতু : আমার সাথে ঝগড়া করা যাবে না
আর আমাকে তুই স্কুলে যা খাবি তার
অর্ধেক ভাগ দিতে হবে।
আমি : হা হা হা যা তোকে আমি
পুরোটাই দিয়ে দিব।
ইতু : আমি পুরোটা নেব না। আমাকে
অর্ধেক দিবি।
আমি : আচ্ছা ঠিক আছে। তোকে
অর্ধেকটাই দিব।
এখান থেকেই আমার আর ইতুর শুরু
হয় বন্ধুত।
তারপর ইতুর কাছ থেকে ওর নিজের
সম্পর্কে সব কিছু জানলাম। ইতুর
আগের বাসা হলো চট্ট গ্রামে।
চট্রগ্রাম থেকে নোয়াখালী
এসে আমাদের পাশের গ্রাম
ভদ্রগাওঁ থেকে এই স্কুলে এসে
পড়াশোনা করে।
তারপর ফোরের বার্ষিক পরীক্ষা
দিয়ে আমরা ৫ম শ্রেনীতে যাই।
এখন আমরা সবসময় একসাথে থাকি
আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকি।
কিন্তু ইতু বুঝতে পারত কিনা জানি না।
ফাহাদ আর আমিন তো আমাদের
দুজন কে নিয়ে সবসময় ফাজলামো
করতো।
ফাইবের পিএসসি দিয়ে আমি ইতু ফাহাদ
আর আমিন একই স্কুলে ভর্তি হই।
হাই স্কুলে ভর্তি হবার পর থেকে
আমি আস্তে আস্তে বুঝতে পারি
ভালবাসা কি। স্কুলের বড়ভাইদের
দেখতাম আপুদের সাথে প্রেম
করতে। তাদের ভালবাসা দেখে
আমারও ইতুকে ভালবাসতে ইচ্ছে
করল। তাই সিক্সে ওঠার কয়েক মাস
পর "
আমি : ফাহাদ দোস্ত আমার আমি
ইতুকে ভালবাসি। কেমনে
প্রপোজ করুম একটু শিখিয়ে দে।
ফাহাদ : হা হা হা হো হো হো দ্যাখ
আমিন শালার পু শালায় কয় কি। ও নাকি
ইতুরে ভালোবাসে?
আমিন : হা হা হা
আমি : দ্যাখ মজা করিস না আমি সিরিয়াস।
আমিন :তোর শরীর ঠিক আছে
তো।
আমি : হুম। এবার তোরা হেল্প করবি
কিনা?
ফাহাদ : আচ্ছা করুম।
এরপর এই ব্যপার টা সবাই কে বলে
দিই। তারপর একদিন কিভাবে যেন কার
কাছ থেকে ইতু জেনে গেছে
আমি ওকে ভালবাসি।
এরপর একদিদ ইতু কি বুঝলো আমি
জানি না আমার দিকে কতখন কেমন
ভাবে যেন তাকিয়ে ছিলো।
এরপর থেকে ইতু কেমন যেন
হয়ে যায়। আমার সাথে বেশি কথা
বলতে চায় না। আমাকে দেখলে
সবসময় এড়িয়ে চলতো। ইতুর
এইরকম আচরণ দেখে আমার
অনেক কষ্ট হতো কিন্তু কাউকে
বলতে পারতাম না। ইতু আমার কষ্ট টা
বুঝেও আমাকে ইগনোর করত তাই
আমিও ওকে কিছু বলতাম না!
এরপর আমিও ওর সাথে কথা বলার
চেষ্টা করিনি ইতুও আর কথা বলে নাই।
শুধু চোখ দিয়ে চোখাচোখি
হতো।
কেটে গেল তিনবছর এখন আমরা
নাইনে পড়ি।
আর এরই মাঝে ইতু হয়তো
আমাকে ভালবেসে ফেলেছে।
ওর আচরণে বুঝা যায়। আমার সাথে
কথা বলতে চেষ্টা করে আমার
কেয়ার নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু
আমি এখন পাওা দেই না।
একদিন ফাহাদ আর আমিন অনেক
চেষ্টা করছে আমাদের কথা বলে
মিলিয়ে দেওয়ার কিন্তু পারে নাই আর
আমি বেশী আগ্রহ দেখাই নাই তাই
সেটা আরও সম্ভব হয়নি।
দেখতে নাইনের ফাইনাল পরীক্ষা
চলে আসলো, পরীক্ষা গুলো
ভালভাবেই দিলাম।
কিন্তু শেষের পরীক্ষার দিন
পরীক্ষা দিয়ে চলে আসছিলাম।
হটাৎ ইতু আমার পথ আগলে দাড়িয়ে
হাত ধরে টেনে বাগানে নিয়ে
গেল। সেখানে গিয়েই ইতু
আমাকে প্রপোজ করে বসলো
আর। তারপর বাচ্চাদের মত কেদে
দিল।
আমি কি করব কিছু বুঝতে পারলাম না, ও
কেন আমাকে প্রপোজ করল।
কিন্তু তারপর আমি আর কিছু না ভেবে
ওর প্রপোজ গ্রহণ করে নিলাম।
এখন আমরা দুজন দুজনকে অনেক
ভালবাসি।
এভাবেই চলছে আমাদের
রিলেশনশিপ। কিভাবে চলছে এটা
তো উপরে দেখলেনিই। এবার
দোয়া করেন সারাজীবন যেন
আমাদের সম্পর্ক টা থাকে।
♬
written : কল্পনা বিলাসী আকাশ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন